1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
আনোয়ারায় ভূমি অফিসে দ্বৈত নীতি: মোটা অঙ্কের ঘুষে ৭৩ সালের দলিলেও নামজারি অনুমোদন, সাধারণদের ক্ষেত্রে খারিজের অভিযোগ চকরিয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির পাহাড়সম অভিযোগ: অতিষ্ঠ এলাকাবাসী অনলাইনে ট্রেনের ঈদযাত্রায় ২৬ মে’র টিকিট মিলবে আজ চট্টগ্রামে সবজি-ডিমের দামে নাভিশ্বাস ১০ দফা দাবি – হামে শিশুমৃত্যু ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন চন্দনাইশে ঘর নির্মাণে বাধা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; চাঁদাবাজ ও দখলবাজ হিসেবে অভিযুক্ত বাদশা মিয়া বন চেকপোস্টে অর্থ আদায় ও পোস্টিং বাণিজ্যের অভিযোগ, আলোচনায় সাইফুল ইসলাম অভিযোগের ঘেরাটোপে যমুনা অয়েলের প্রশাসনিক কাঠামো, আলোচনায় মাসুদুল ইসলাম পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান ঈদযাত্রায় রেলের ভরসা পুরোনো ইঞ্জিন
শিরোনাম :
আনোয়ারায় ভূমি অফিসে দ্বৈত নীতি: মোটা অঙ্কের ঘুষে ৭৩ সালের দলিলেও নামজারি অনুমোদন, সাধারণদের ক্ষেত্রে খারিজের অভিযোগ চকরিয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির পাহাড়সম অভিযোগ: অতিষ্ঠ এলাকাবাসী অনলাইনে ট্রেনের ঈদযাত্রায় ২৬ মে’র টিকিট মিলবে আজ চট্টগ্রামে সবজি-ডিমের দামে নাভিশ্বাস ১০ দফা দাবি – হামে শিশুমৃত্যু ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন চন্দনাইশে ঘর নির্মাণে বাধা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ; চাঁদাবাজ ও দখলবাজ হিসেবে অভিযুক্ত বাদশা মিয়া বন চেকপোস্টে অর্থ আদায় ও পোস্টিং বাণিজ্যের অভিযোগ, আলোচনায় সাইফুল ইসলাম অভিযোগের ঘেরাটোপে যমুনা অয়েলের প্রশাসনিক কাঠামো, আলোচনায় মাসুদুল ইসলাম পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান ঈদযাত্রায় রেলের ভরসা পুরোনো ইঞ্জিন

আনোয়ারায় ভূমি অফিসে দ্বৈত নীতি: মোটা অঙ্কের ঘুষে ৭৩ সালের দলিলেও নামজারি অনুমোদন, সাধারণদের ক্ষেত্রে খারিজের অভিযোগ

  • শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

 

এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:: আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ভূমিসেবা কেন্দ্রিক ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। নামজারি, ডিসিআর ও মিচ মামলার নামে উপজেলা ভূমি অফিসে অবাধে চলে ঘুষ বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর দায়িত্বকালেই উপজেলা ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি করতে গিয়ে সাধারণ ভূমি মালিকদের সীমাহীন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দলিলে আরএস দাগ বা ১৯৭৩-৭৪ সালের পুরোনো দলিল হলে নামজারি আবেদন খারিজ করে দিচ্ছেন এসিল্যান্ড দীপক ত্রিপুরা। তবে আমাদের অনুসন্ধানে বর্তমান এসিল্যান্ড দীপক ত্রিপুরার দায়িত্বকালে ১৯৭৩-৭৪ সালের পুরোনো দলিলের ভিত্তিতেও একাধিক নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। এমন চারটি নামজারির খতিয়ানের কপি এ প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

নামজারি খতিয়ানগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত অক্টোবর, নভেম্বর নামে ১৯৭৪ সালের পুরোনো দলিলের ভিত্তিতে প্রায় ১ মাসের মধ্যেই নামজারির অনুমোদন দিয়েছেন এসিল্যান্ড দীপক ত্রিপুরা। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এ নামজারি অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে আরএস দাগ বা ১৯৭৪, ১৯৯৬ সালের পুরোনো দলিলগুলো নানা অজুহাত দেখিয়ে নামজারি আবেদন খারিজ করে দিচ্ছে। এছাড়াও কম টাকায় মিউটেশন থেকে মিউটেশন ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা জানান, বাড়তি টাকা ছাড়া হয় না কোন কাজ। প্রতি ধাপে ধাপে ঘুষ দিতে হয় সেবা প্রার্থীদের। টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকার পরও দালাল বা অতিরিক্ত টাকা ছাড়া ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ঘুষদাতাদের আবেদন অল্প সময়েই ম্যাজিকের মতো অনুমোদন পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন জানান, আমাদের ৮০ সালের দলিল নামজারি করাচ্ছে না সম্ভব না বলে। ৫০ হাজার টাকা লাগবে নাকি ৮০ সালের দলিল।

ভুক্তভোগী শেখ কপিল উদ্দিন জানান, আমি নামজারির জন্য দলিল দিয়েছি ৭৭ ইংরেজির। ১১ মাস হয়ে গেছে। ভূমি কর্মকর্তারা বলছেন হবে না। কেন জানতে চাইলে বলতেছে, স্যার পুরাতন দলিলের কাজ করবে না। কেন করবে না আমরা জানি না। সাধারণ মানুষ এভাবে আর কত হয়রানির শিকার হবে?

ভুক্তভোগী আবদুল করিম প্রশ্ন তুলে বলেন, একই ভূমি অফিসে দুই ধরনের নিয়ম কেন হবে? সাধারণ মানুষ নিজে ফাইল জমা দিতে গেলে নানা অজুহাত দেখিয়ে তা ফেরত পাঠানো হয়। অথচ একই ফাইল দালালের মাধ্যমে জমা দিলে আর কোনো সমস্যা থাকে না। যদি সত্যিই ফাইলে ত্রুটি বা কাগজপত্রের ঘাটতি থাকে, তাহলে দালালের মাধ্যমেও তো সেই সমস্যা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দালালের মাধ্যমে কাজ করলেই যেন সব সমস্যা ‘ম্যাজিকের’ মতো দূর হয়ে যায়। ফাইল দ্রুত গ্রহণ করা হয় এবং কাজও অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।

ভুক্তভোগী রাশেদুল হক জানান, আমাদের কয়েকটি দলিল এসিল্যান্ড নামজারি করে নাই আরএস বলে।

ভুক্তভোগী আবুল কালাম জানান, আরএস দাগ থাকায় আমার নামজারি সম্ভব নয় বলে বাতিল করে দিয়েছে।
আরএস দাগ থাকা বা পুরোনো দলিলের ক্ষেত্রে যদি নামজারি না করার নিয়ম থাকে, তাহলে তা সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। একই ধরনের কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কারও ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে পুরোনো দলিলেও নামজারি করে দেওয়া হচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে টাকা না দিলে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে এসিল্যান্ডের দ্বিমুখী আচরণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এভাবে ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে হয়রানি না করে যদি সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হতো যে ঘুষ ছাড়া নামজারি হবে না, তাহলে মানুষ অন্তত স্পষ্টভাবে বুঝতে পারত। এ ধরনের অনিয়ম ও বৈষম্যমূলক আচরণে আমরা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছি।

ভুক্তভোগী নাজমুল হাসান জানান, ভূমি অফিসে গেলে মনে হয় সব নিয়ম শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। প্রভাবশালী ব্যক্তি বা দালালদের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নিয়ম আছে। চোখের সামনে দালালরা ফাইল নিয়ে আসা-যাওয়া করছে এবং তাদের ফাইলে কোনো ধরনের সমস্যা ধরা পড়ছে না। আমরা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ফাইলগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভুল বের করা হয় এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বারবার ফেরত দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী রুপন দত্ত জানান, জুঁইদণ্ডী মৌজার একটি হিস্যা সংশোধনের জন্য এক অসহায় দরিদ্র মাদ্রাসার বাবুর্চি গত ৪/৫ মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। লোকটি রায়পুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় কাজ করেন এবং অনেক সময় অফিসে আসার ভাড়ার টাকাও থাকে না। মানবিক কারণে আমি নিজেও কয়েকবার সহযোগিতা করেছি এবং বারবার অনুরোধ করেছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে ভূমি অফিসের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) দীপক ত্রিপুরা ব্লক করে দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরাকে বরিশাল বিভাগে বদলি করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে পরদিন ১৩ জানুয়ারি সেই বদলির প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে তাকে পুনরায় আনোয়ারায় বহাল রাখা হয় বলে জানা গেছে।

১৯৭৪ সালের নামজারি খতিয়াগুলো ছবিসহ দেওয়া হয়েছে। সেবা গ্রহীতার নিরাপত্তার স্বার্থে খতিয়ানগুলো ব্লার করে দেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
Theme Customized By BreakingNews