চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম ধোপাছড়ি এলাকায় প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি চলাচলের পথে দেয়াল তুলে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক সংখ্যালঘু পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুলাল বড়ুয়ার অভিযোগ, তাদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওই নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করে নিজ বসতবাড়িতে যাতায়াত করে আসছে। প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত এই পথটি তাদের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওই পথটি হঠাৎ করে দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারটি চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জানা যায়, পশ্চিম ধোপাছড়ি মৌজার বিএস ৩০৮৬ দাগের জমির ওপর দিয়ে এই চলাচলের পথটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি সাধারণ পথ নয়, বরং বহু প্রজন্ম ধরে ব্যবহৃত একটি ঐতিহ্যবাহী চলাচলের রাস্তা হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় চার বছর আগে রুপ্তা চৌধুরী ওই জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে দুলাল বড়ুয়ার সঙ্গে চলাচলের রাস্তা ব্যবহারের বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি নির্বিঘ্নে চলাচল করে আসছিল।
তবে ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি স্থানীয় সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীরা পূর্বের সেই সমঝোতা উপেক্ষা করে রুপ্তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে ওই চলাচলের পথটি দখলের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে ওই একমাত্র চলাচলের পথেই দেয়াল নির্মাণ করে সম্পূর্ণভাবে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দুলাল বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই চলাচলের পথ হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো কোনো চলাচলের পথ হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাদের মতে, বিষয়টি কেবল জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো চলাচলের পথ যদি দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে তা অনেক ক্ষেত্রে “চলাচলের অধিকার” বা easement right হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে জমির মালিকানা থাকলেও আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া চলাচলের পথ বন্ধ করা করা যায়না। তারা আরও জানান, প্রমাণ সাপেক্ষে আদালত এ ধরনের চলাচলের অধিকার পুনঃস্থাপন করতে পারে এবং প্রয়োজনে প্রশাসন বাধা অপসারণের নির্দেশ কার্যকর করতে পারে। যদি সত্যিই দীর্ঘদিনের ব্যবহার হয়, তাহলে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই আইনগতভাবে সঠিক পথ।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের অধিকার পুনরুদ্ধার করা যায়।