বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের রুমা প্রেসক্লাবে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ (২৪ বছর) ধরে একই নেতৃত্ব বহাল থাকায় স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকা শৈহ্লাচিং মারমার একচ্ছত্র প্রভাবের কারণে সংগঠনটিতে নিয়মিত নেতৃত্ব পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক চর্চা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের নেতৃত্বে আসার পথ সম্পূর্ণ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, শৈহ্লাচিং মারমা নিজের স্বার্থ ও পদ ধরে রাখতে রাজনৈতিকভাবে বারবার ভোল পাল্টেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দলটির প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখেন। তবে পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি ভোল পাল্টিয়ে নিজের গায়ে বিএনপির ট্যাগ লাগিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি রুমা প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি ক্লাবের সম্পদ এবং সরকারি বিভিন্ন অনুদান আত্মসাৎ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। একটি পেশাজীবী সংগঠনকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে বিএনপির রাজনীতির ঢাল ব্যবহার করায় রুমা উপজেলা জুড়ে এখন তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুমার একাধিক পেশাদার সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শৈহ্লাচিং মারমার অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রেসক্লাবকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানানোর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বা প্রতিবাদ জানালে তাকে বিভিন্নভাবে মামলা ও হামলার ভয়ভীতি দেখানো হয়। এই চতুর ও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
সংশ্লিষ্টরা জানান:
“একটি পেশাজীবী সংগঠনে নিয়মিত নির্বাচন, গঠনতান্ত্রিক চর্চা এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন হওয়াই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু রুমা প্রেসক্লাবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে সেই চর্চা অনুপস্থিত। ক্লাবকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে পরিচালনা করায় এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সাধারণ সদস্যদের মতামতের প্রতিফলন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে চরম হতাশা।”
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে শৈহ্লাচিং মারমার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, রুমা উপজেলার পেশাদার ও সাধারণ সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ রুমা প্রেসক্লাবে দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠন গড়ে তুলতে হলে কোনো ব্যক্তি নয়, বরং প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিতে হবে। অবিলম্বে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্য তালিকা হালনাগাদ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নিশ্চিত করা না হলে, ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।