1. admin@nagoriknewsbd.com : admin :
  2. nagoriknewsctg@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
  3. hossainkamrul92@gmail.com : Kamrul Hossain : Kamrul Hossain
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

ঈদযাত্রায় রেলের ভরসা পুরোনো ইঞ্জিন

  • সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

লোকবল ও যন্ত্রাংশ সংকটে ৯০ ইঞ্জিন প্রস্তুতের চ্যালেঞ্জ পূর্বাঞ্চল রেলে

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে ৯০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও মানসম্মত যন্ত্রাংশ সংকট। পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করেই ঈদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, পাহাড়তলী ডিজেল শপ ও ঢাকা বিভাগের কারখানায় একযোগে ইঞ্জিন মেরামত চলছে। ঈদে অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা ও নিয়মিত চলাচল সচল রাখতে অন্তত ৯০ থেকে ৯৫টি ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, গত ঈদুল ফিতরে ৮৮টি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার কোরবানির ঈদে আরও বেশি ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা থাকায় ৯০ থেকে ৯৫টি ইঞ্জিন প্রস্তুতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই বিভাগ থেকে চাহিদা পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ইঞ্জিন বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন স্বাভাবিক ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১০০টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও সচল অবস্থায় পাওয়া যায় মাত্র ৭৮ থেকে ৮০টি। ঈদের সময় মালবাহী ট্রেন কম চলাচল করায় সেখান থেকে কিছু ইঞ্জিন যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করা হয়।

পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক জানান, পাহাড়তলী ডিজেল শপে ৫৫টি এবং ঢাকা বিভাগে ৩৫টি ইঞ্জিন মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৬টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে।

তবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ লোকবলের সংকটে ভুগছে ডিজেল শপ। অভিজ্ঞ কর্মীর অভাবে নতুনদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেরামত কাজ করাতে হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রাংশ না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প উপকরণ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে বহরে মোট ২৯৭টি ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ ১৬৭টি এবং ব্রডগেজ ১৩০টি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো—৫১ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ৪০ বছরের বেশি পুরোনো ইঞ্জিনও এখনও ট্র্যাকে চলাচল করছে।

রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ না বাড়ালে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে রেলওয়ে। ঈদযাত্রাকে ঘিরে আপাতত পুরোনো ইঞ্জিন মেরামত করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved © 2024 nagoriknewsbd
Theme Customized By BreakingNews