চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের একাধিক চেকপোস্টকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়, বদলি বাণিজ্য এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, বন বিভাগের একাধিক কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চেকপোস্ট ব্যবস্থাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী হাটহাজারী, ফৌজদারহাট, করেরহাট, ধূমঘাটসহ চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলোতে কারা দায়িত্ব পালন করবে এবং কীভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে—এসব ক্ষেত্রে মো. সাইফুল ইসলাম-এর একক প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ আমলের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী সময়কালে এই বলয় ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভিত্তি গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় থেকেই চেকপোস্টকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পোস্টিং বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেনের একটি নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতেও সেই কাঠামো সক্রিয় থেকে চেকপোস্ট ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বজায় রাখে।
চেকপোস্ট দিয়ে চলাচলকারী কাঠ, বাঁশ ও বনজ পণ্যবাহী যানবাহন থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ আদায়ের একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। প্রতিটি যানবাহন থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মো. সাইফুল ইসলাম-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগকারীর দাবি করেন, চেকপোস্টে গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং পাওয়া এবং সুবিধাজনক স্থানে দায়িত্ব নিশ্চিত করতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্যের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মাধ্যমে একই ব্যক্তি বারবার নির্দিষ্ট স্থানে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে মো. সাইফুল ইসলাম-এর নাম উঠে আসে।
বন বিভাগের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেকপোস্টগুলোতে দায়িত্ব পাওয়া এখন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না, বরং প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও যুক্ত রয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার বাইরে থাকলে অনেককে দ্রুত বদলির মুখে পড়তে হয়।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, বন রক্ষার জন্য মাঠপর্যায়ে জনবল থাকার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে জনবল সংকট দেখা যায়। বিপরীতে চেকপোস্টগুলোতে তুলনামূলক বেশি জনবল রাখা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্থানীয় পরিবেশবিদরা বলছেন, বন চেকপোস্ট যদি ব্যক্তি বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে অবৈধ কাঠ পাচার, বনজ সম্পদ ধ্বংস এবং রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এতে বন সংরক্ষণ কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে চেকপোস্টভিত্তিক আর্থিক লেনদেন, বদলি প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।