এক যুগের ক্ষমতার বলয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু ইউছুফ
বদলি নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, কমিশন বাণিজ্য ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
অনুসন্ধান প্রতিবেদন | প্রথম পর্ব
সীতাকুণ্ড পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু ইউছুফের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন শুধু স্থানীয় আলোচনার বিষয় নয়; বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, ঠিকাদারদের হয়রানি, কমিশন বাণিজ্য এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় এক যুগ ধরে সীতাকুণ্ড পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন আবু ইউছুফ। সরকারি বদলি নীতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে বহাল থাকাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেন।
একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও বিল ছাড় করতে অযথা বিলম্ব করা হতো। মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে কমিশন আদায়ের চাপ সৃষ্টি করা ছিল নিয়মিত কৌশল। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু ইউছুফ ও হিসাব কর্মকর্তা ফয়েজ আহমদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে অনেক অভিজ্ঞ ঠিকাদার কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনি সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এছাড়া নিজের নামে সম্পদ না রেখে আত্মীয়-স্বজন ও বেনামি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং সম্পদ গোপনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে চট্টগ্রামের বিলাসবহুল Spire প্রকল্পে তার উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের তথ্য সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সরকারি ভবনে অনুমোদনহীনভাবে বসবাস এবং সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও তার বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে কি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা?
সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যখন ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অন্যথায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রকৌশলী আবু ইউছুফের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক তথ্য, সম্পদের উৎস, সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত হবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।