মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ,বাড়ছে জনদুর্ভোগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো :
টানা বর্ষণে আবারও অচল হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। একদিনের ভারী বৃষ্টিতেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি যেমন বাড়বে, তেমনি নগরের নিচু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, চকবাজার, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, হালিশহর, বন্দর এলাকা, ষোলশহর, ওআর নিজাম রোড, কাজীর দেউড়ি, বাদুরতলা, একে খান ও অলংকার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। অনেক স্থানে বাস, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন পানিতে আটকে পড়ে। ধীরগতির যান চলাচলের কারণে নগরের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল কম। পানি ঢুকে পড়ায় নিচু এলাকার বহু বাসা ও দোকানের আসবাবপত্র এবং মালামালের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে সুফল মিলছে না। খাল-নালা দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে যাচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন প্রকল্প গ্রহণ নয়, বিদ্যমান ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, খাল-নালা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ভারী বর্ষণের সময় পাহাড়ি এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণ চলতে থাকলে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।